Wednesday, November 21, 2012

বগুড়া- উত্তরাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র, সম্ভাবনাময় একটা শহর, যথাযথ পরিকল্পনার ছোয়া পেলে দেশের অন্যতম ব্যবসাকেন্দ্র, পর্যটনকেন্দ্র, শিক্ষার শহরে পরিনত করা সম্ভব। এখানে রয়েছে বেশ কজন পীর আঊলিয়া, বিখ্যাত বগুড়ার দই, রয়েছে আন্তঃজাতিক মানের শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম, আধুনিক জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ, ৪তারকা হোটেল নাজ গার্ডেন প্রভূতি।

বগুড়ায় যেভাবে যাবেন (ঢাকা থেকে):
ঢাকার গাবতলী আর মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে বগুড়া যাবার জন্য এসি-ননএসি-ভলবো-মফিজ সব ধরনের বাসই আছে। তবে গ্রীনলাইন, এসআর পরিবহন, শ্যামলী ট্রাভেলস, টিআর ট্রাভেলস, হানিফ ইন্টারপ্রাইজ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া মধ্যমমানের একতা পরিবহন আছে যা  মহাখালী থেকে বগুড়ার উদ্দেশ্যে ছাড়ে। ট্রেনে যাওয়া সহজ হবে না, কারন শান্তাহার নেমে আবার বগুড়ায় আসতে হবে, এরচেয়ে প্রায় চার/সাড়ে চার ঘন্টার বাস ভ্রমন অনেক আরামদায়ক। ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে নামতে পারবেন বনানীতে, ঠনঠনিয়া আন্তঃজেলা কোচ টার্মিনালে। আর যদি বাস এর শেষ গন্তব্য বগুড়ায় না হয় তাহলে অবশ্যই বনানী, চারমাথায় নামতে হবে। তবে অনেক বাস ঠনঠনিয়া আন্তঃজেলা কোচ টার্মিনালে বগুড়ার যাত্রী নেমে দিয়ে পরের গন্তব্যে চলে যায়।


নিচে বাস কাউন্টার এর নাম্বার দিচ্ছি (কৃতজ্ঞতাঃ বিডিট্রাভেল ইনফো)

শ্যামলী পরিবহনঃ ভাড়া নন এসি ২৫০ +/- (এসি ৩০০ এর মত)
কল্যানপুরঃ 02-9003331, 02-7520405
গাবতলীঃ 02-8014538, (0531)-64211
কলাবাগানঃ 01711130862
আসাদ গেটঃ 02-9123471, 8124881
দারুস সালামঃ 01712-008672, 01711-868283
বগুড়াঃ 64920, 64455, 01712-292966

এসআর ট্রাভেলসঃ এসি ৩০০টাকা, সকাল ৭.৩০ থেকে রাত ১১.৩০ পর্যন্ত ৩০মিনিট পরপর ছাড়ে

কল্যানপুরঃ 02-8013793, 02-8060876
গাবতলীঃ 02-8011226
কাকরাইলঃ 02-9352118
উত্তরাঃ 01552315318, 0171944023
মহাখালীঃ 02-8834833
বগুড়াঃ 01711394802, 06445100066

টিআর ট্রাভেলসঃ 
সকাল ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত গড়ে প্রায় ৩০মিনিট পরপর ছাড়ে, ভাড়া ২০০টাকা (নন এসি)
গাবতলীঃ 01191-494865
কল্যানপুরঃ 01191-494868
মহাখালীঃ 01191-494866
বগুড়াঃ 01191-494862, 01195116222

গ্রীন লাইন পরিবহনঃ
উত্তরাঃ 01716976775
কল্যানপুরঃ 9008694 / 8032957 (Petrol Pump)
কলাবাগানঃ 9112287
বগুড়াঃ  051-60477, 0189815842

একতা পরিবহনঃ  প্রতি ৪০মিনিট পরপর, ভাড়া প্রায় ২০০টাকা
মহাখালীঃ 01711103191
উত্তরা (আব্দুল্লাহপুর)ঃ 01712287730
উত্তরা (আজমপুর)ঃ 01717551107
বগুড়াঃ 01191184895


বগুড়ায় থাকার প্লান করলেঃ 
হোটেল নাজ গার্ডেন (ফোর স্টার মানের), পর্যটন মোটেল (880-51-67024-7), সেফওয়ে মোটেল (+8805166087), নর্থওয়ে মোটেল (+88-051-66824, +8805167019), সেন্চুরি মোটেল, মোটেল ক্যাসল এম এইচ (+8805151769)। এগুলা প্রত্যেকটাই শহরের বাইরে, নিরিবিলি পরিবেশে। আর শহরের মধ্যেও অনেক হোটেল আছে তার মধ্যে হোটেল আকবরিয়া অন্যতম। আরো কিছু হোটেলের নাম্বারঃ


হোটেল আকবরিয়াঃ ৬৬৯৯৭ 
আরিফ হোটেক এন্ড রেষ্টুঃ ৭৩২৭২
হোটেল আল নূরঃ ৬৬৫৫১
হোটেল আল যামি (বড় মসজিদ লেন)-৬৫৮৯৫
হোটেল আজিজ (কবি নজরুল সড়ক)-৭৩৮৮৬
হোটেল হানিডে (বড় মসজিদ লেন)-৬৪৩৫৫
হোটেল মোমিন (থানা রোড)-৬৫৫৩৬
হোটেল রাজমনি (রাজাবাজার)-৬৪০২১
হোটেল সানভিঊঃ ৬৬০০৬ 
কৃতজ্ঞতাঃ bdtradeinfo



 
           নাজ গার্ডেন (ছবিঃ হামড়া বোগড়োর ছোল-ফেসবুক ফ্যান পেজ)

হোটেল সম্পর্কে এখানে আরো তথ্য পাবেনঃ


বগুড়ায় ঘোরাঘুরিঃ
এখানে দেখতে পারেনঃ |লিঙ্ক-১| |লিঙ্ক-২|





      (কৃতজ্ঞতাঃ মাইবাংলাদেশ)
প্যালেস মিউজিয়াম (নবাব বাড়ি রোড): বগুড়ার নবাবের বাড়িকে নতুন করে সাজিয়ে এমিউজমেন্ট পার্ক বানানো হয়েছে। ভাল লাগবে।
বগুড়া নবাব বাড়ি (ছবি এবং তথ্যঃ mynewspapercut.blogspot)
নবাব আমলের পাইক-পেয়াদা আর বরকন্দাজের রূপকথা, মডেল করে দেখানো হয়েছে বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী নবাববাড়িতে। নবাবী জীবন প্রণালি এবং নবাবী আমলের সভ্যতা, কৃষ্টি, সংস্কৃতিকে বর্তমান প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার জন্য কয়েকজন গুণী শিল্পীর অক্লান্ত শ্রম ও মেধায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মোহাম্মাদ আলী প্যালেস মিউজিয়াম অ্যান্ড অ্যামাউজমেন্ট পার্ক। দেশের উত্তর জনপদের কেন্দ্রস্থল বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র করতোয়া নদীর পশ্চিম তীর ঘেঁষে নবাব প্যালেসের ভেতরে তৈরি করা হয়েছে এই মিউজিয়াম অ্যান্ড পার্ক।

নবাব প্যালেসে প্রবেশ করলে দেখা যাবে তরুণী-কৃষাণী বধূরা অপেক্ষা করছে তার প্রেমিক কৃষাণের জন্য। নবাববাড়ির চারদিকে পাতাঝরা গাছে পাখি বসে আছে। কোনো কোনো গাছে পাখিরা ঠোকাঠুকি করছে। পুরনো প্যালেসটি বিশাল এক জাদুঘর। বিনোদন কেন্দ্র, জোড়া ঘোড়ার গাড়ি, কোচওয়ানদের হাতে চাবুক। ইতিহাসভিত্তিক কাহিনী অবলম্বনে যদি চলচ্চিত্র নির্মাণ হতে পারে, আবার তা যদি বাণিজ্যিক সফলতা পায় তবে ইতিহাসের বিষয়বস্তুর প্রতিচ্ছবি-প্রতিমূর্তি দাঁড় করিয়ে কেনইবা দর্শকনন্দিত করা যাবে না। এ বিশ্বাসকে ভিত্তি করে বগুড়ার নবাববাড়ির অতীত দিনের নেপালি দারোয়ান, মালী, পালকি, বেহারা, কোচওয়ান, টমটম, সিংহ, বাঘ, কুমির, ময়ূর, রাজহাঁস, বিভিন্ন পাখির প্রতিমূর্তি সিমেন্ট দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। নবাববাড়ি বিরাট হলরুমের দেয়ালে নবাব আবদুস সোবাহান চৌধুরী, নবাবজাদা আলতাফ আলী চৌধুরী, তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মাদ আলী, সৈয়দ তহুরুন নেছা চৌধুরানী, সৈয়দ আলতাফুন নেছা চৌধুরানী। নবাব আমলের এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে শিল্পী আমিনুল করিম দুলাল এগিয়ে আসেন। সৈয়দ ওমর আলী চৌধুরীর উদ্যোগে শিল্পী আমিনুল ইসলাম দুলাল তার সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে ইতিহাসের সূতিকাগার নবাববাড়িকে রক্ষা করেন এবং একে দর্শনীয় স্থানে রূপদানের চেষ্টা করেন। শিল্পী দুলালের সহযোগিতার আশ্বাস পেয়ে সৈয়দ ওমর মশগুল, অতিথি আপ্যায়ন, বিলিয়ার্ড খেলা, পড়ার ঘরে বই সাজানো, জলসা ঘরে জলসার দৃশ্য, নায়েবের খাজনা আদায়_ এমন অনেক দৃশ্য জীবন্ত করে তোলার জন্য ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়।

১৯৯৮ সালের মে মাসে বগুড়ার নবাব মোহাম্মাদ আলী প্যালেস মিউজিয়াম অ্যান্ড অ্যামাউজমেন্ট পার্ক বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু করে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। ১০ টাকার টিকিট কিনে মূল গেট পার হতে হয়। এরপর ট্রেন, দোলনা, বিমানে চড়া এবং নবাববাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে টিকিট প্রয়োজন হয়। বর্তমানে এই মিউজিয়াম দেখাশোনা করেন মোহাম্মাদ আলীর ছেলে সৈয়দ হামদে আলী চৌধুরী। তিনি দীর্ঘদিন কানাডায় অবস্থানের পর কয়েক বছর আগে দেশে ফিরে পিতৃবাড়িতে অবস্থান করছেন।  (কৃতজ্ঞতাঃ আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া)
ওয়ান্ডারল্যান্ড এবং শহীদ চান্দু আন্তর্জাতিক ষ্টেডিয়ামঃ--এত নিরিবিলি ওয়ান্ডারল্যান্ড আপনি আর কোথাও দেখবেন না আমি নিশ্চিত।সাথে আন্তঃজাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম দেখা ফ্রি।
শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম (ছবিঃ প্যানারোমিওডটকম)


সাতমাথাঃ বগুড়া শহরের প্রানকেন্দ্র হলো সাতমাথা। সপ্তপদী মার্কেট এর দোতলা/তিনতলা থেকে চমৎকার ভিঊ পাবেন সাতমাথার। এখানেই রয়েছে বগুড়া জিলা স্কুল, শহীদ খোকন পার্ক, জিপিও, সার্কিট হাউজ।সাতমাথা থেকে কবি নজরুল সড়ক (থানা রোড) দিয়ে এগিয়ে গেলেই পাওয়া যাবে এশিয়া সুইটস, কোয়ালিটির বিরিয়ানী হাউজ, হোটেল শ্যামলী, হোটেল আকবরিয়া।



এশিয়া সুইটমিট


            বগুড়া জিলা স্কুল ( ছবিঃ জুনায়েদ )
শহীদ খোকন পার্ক (ছবি-ফয়সল কবীর শুভ)
নবনির্মিত বায়তুর রহমান মসজিদ (ছবি-ফয়সল কবীর শুভ)
তিনমাথা/মাটিডালি (ছবিঃ হামড়া বোগড়োর ছোল-ফেসবুক ফ্যান পেজ) 
 
জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (ছবি-বগুড়াসিটি.ইনফো)
এডওয়ার্ড পার্কঃ
বৃটিশ শাসনামলে বগুড়া শহরের কেন্দ্রবিন্দু সাতমাথার কাছে শহরের মানুষের অবকাশ এবং বিনোদনের জন্য পার্ক গড়ে তোলা হয়। বৃটিশ রাজা সপ্তম এডওয়ার্ডের নামে এই পার্কটির নাম করণ করা হয় এডওয়ার্ড পার্ক এবং পার্কে সপ্তম এডওয়ার্ডের একটি সাদা পাথরের মূর্তিও স্থাপন করা হয়। সে সময় এডওয়ার্ডের স্থাপনকৃত মূর্তির কাছেই দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা নির্মাণ করা হয়। এই ফোয়ারার পানিতে স্থাপন করা হয় বেশ কয়েকটি পাথরের হাঁস। বগুড়ার আদমদীঘির তৎকালীন জমিদার যতীশ চন্দ্র নিওগীর অর্থায়নে বাংলা ১৩১৯ সন অনুযায়ী ১৯১২ সালে পার্কে ফোয়ারাটি নির্মাণ করা হয়।  নতুন করে আবারো সাজানো হচ্ছে এই পার্কটিকে ভ্রমনপিপাসু আর প্রকৃতিপ্রেমিদের বিচরণের জন্য। সাতমাথা থেকে দক্ষিন দিকে হেঁটে মাত্র ২ মিনিট।

এছাড়া তিনমাথার কাছাকছি সরঃ আযিযুল হক বিশ্ব কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুঁ মারতে পারেন।
এছাড়া চারমাথা বাস টার্মিনাল থেকে অথবা মাটিডালি মোড় থেকে ঘুরে আসতে পারেন শিশুপল্লী থেকে


মহাস্থান গড়ঃ শহরের প্রানকেন্দ্র সাতমাথা থেকে অথবা দত্তবাড়ি থেকে সিএনজি নিয়ে যাবেন। বগুড়া থেকে ১২কিমি উত্তরে মহাস্থান গড়। এখানে সারাদিন ঘুরতে পারেন। জাদুঘর দেখবেন। মাজার জিয়ারত করতে পারেন। গোবিন্দ ভিটার পাশে প্রবহমান করতোয়া নদীর তীরে গাছের ছায়ায় অবশ্যই কিছুক্ষন বসবেন। আসার পথে বেহুলার বাসর ঘর দেখে আসবেন। এবং অবশ্যই মহাস্থানের "কটকটি" (চালের আটার) কিনে আনবেন। এছাড়া মহাস্থান গড় থেকে অনতিদুরে রয়েছে দেশের একমাত্র মসলা গবেষনাগার।
                 মহাস্থানগড়ের মসজিদ এবং মাজারে যাবার সিড়ি (ছবিঃ সামু ব্লগার অপ্সরা)

মহাস্থানগড় (ছবি-ওএমএস নিউজ) 

জীয়ৎকুন্ড-মহাস্থানগড় [ছবি কৃতজ্ঞতাঃ ডাঃ এন, এইচ, সার্জা]

মহাস্থান যাদুঘর

             

মহাস্থানের কটকটি (ছবিঃ সামহোয়ারইনব্লগ)

বেহুলার বাসর ঘর (গোকুল)-  
বেহুলার বাসরঘর [ছবি-জুনাইদ]
      
মা মনসার রোষানল একে একে কেড়ে নিয়েছে চাঁদ সওদাগরের সবকটি সন্তান। বাকি কেবল লখিন্দর। কিন্তু তাঁকেও কেড়ে নেওয়ার সময় বেঁধে দিয়েছেন মনসা, ‘বাসররাতই হবে লখিন্দরের জীবনের শেষ রাত।’ কী করবেন চাঁদ সওদাগর? অনেক ভেবে লোহা দিয়ে নির্মাণ করলেন লখিন্দরের জন্য নিশ্ছিদ্র শয়নকক্ষ। কিন্তু তাতেও কি শেষ রক্ষা হলো? কোনো এক ফুটোপথে ঠিকই ঢুকে পড়লেন সাপের দেবী। সুযোগ বুঝে লখিন্দরের পায়ে ছোবল... দিশেহারা বেহুলা... মৃত স্বামীকে কলার ভেলায় তুলে তাঁর ইন্দ্রপুরীতে যাত্রা... নেচে গেয়ে খুশি করতে হবে ইন্দ্রকে...। সেই লখিন্দরের ভিটে কিন্তু এখনো মাথা উঁচু করে ঠায় দাঁড়িয়ে। অন্তত এলাকাবাসীর কাছে আজও তা বেহুলার বাসরঘর নামেই পরিচিত, বগুড়া শহর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরেই যার অবস্থান।
এমন লৌকিক কাহিনিসমৃদ্ধ স্থান পরিদর্শন করতে কার না মন টানে? আমরা বন্ধুরা তাই সদলবলে তশরিফ রাখি বেহুলা-লখিন্দরের বাসরভিটায়। যখন পৌঁছাই, তখন দুপুর-বিকেলের মাঝামাঝি। কিন্তু সূর্যের তেজ বলছে, খাড়া দুপুর। ভ্যাপসা গরম। তবু আমাদের মতো আরও অনেক দর্শনার্থীই এসেছে। সবারই যেন এক মনোভাব—থোড়াই কেয়ার করি ওসব তেজ আর গরমকে!
মূল স্থাপনাটি সমতল হতে বেশ উঁচু এবং বহু স্তরবিশিষ্ট একটি দুর্গ। প্রত্যেক স্তরেই অসংখ্য কক্ষ। বন্ধুরা কৌতূহলী হয়ে গুনতে শুরু করলাম। গণনা এসে থামল ১৭৮-এ! অর্থাৎ ১৭৮টি কক্ষ আছে এই দুর্গে। এতগুলোর মধ্যে কোনটি তবে বেহুলার বাসরঘর? বোঝা মুশকিল; কারণ সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। তা ছাড়া সব কটি কক্ষের আকৃতিগত কাঠামোও প্রায় একই রকম। অনেক তালাশ করেও এখানে লৌহনির্মিত কোনো কক্ষ খুঁজে পাওয়া গেল না। বন্ধুরা খুবই হতাশ। তবে দুর্গের একদম চূড়ায় ভিন্ন ধাঁচের একটি গোলাকৃতি কক্ষের দেখা মিলল। মনকে সান্ত্বনা দিলাম, এটিই হয়তো বাসরঘর!
তবে বেশিক্ষণ চূড়ায় থাকা সম্ভব হলো না। সূর্য তেজ ঢালছে তো ঢালছেই। আমরা দ্রুত নেমে আসি, আশ্রয় নিই গাছের ছায়ায়। কৃপা প্রার্থনা করি প্রকৃতির কাছে। প্রকৃতি অবশ্য কার্পণ্য করে না। পাশের ধানখেত ছুঁয়ে আসা বাতাস আর সবুজ গাছপালা মুহূর্তেই প্রাণ জুড়িয়ে দেয় আমাদের। ভ্রাম্যমাণ শসা বিক্রেতার কাছ থেকে শসা কিনে গলা ভেজাই। দেখাদেখি একজন চা-বিক্রেতা আমাদের চা সাধেন, এই গরমে চা খেতে মন চায় না। এরপর আসেন বই বিক্রেতা।‘এই বইয়ে পাবেন বেহুলার বেবাক ইতিহাস, নেন স্যার একটা বই...।’
উঠে পড়ি, পুরো চত্বরে একবার চক্কর না দেওয়াটা বোকামি হবে। তা ছাড়া চত্বরজুড়ে ফুলের গাছ প্রথম থেকেই যেন কাছে ডাকছিল আমাদের। হেঁটে হেঁটে ফুলের সুবাস নিই, প্রজাপতির ওড়াউড়ি দেখি। জায়গায় জায়গায় রয়েছে বসার ব্যবস্থা।
নিজ পথে ছুটতে ছুটতে কোন ফাঁকে ঠিকই সূর্যদেব গাইতে শুরু করেছে বেলা শেষের গান। এর মাঝে হঠাৎ অনুভব করি, পেটের মধ্যে ছুঁচোর উৎপাত। মনে পড়ে, সারা দিন খাওয়া হয়নি কিছুই। কিছু সময়ের জন্য প্রত্নতাত্ত্বিক মনকে দূরে সরিয়ে রেখে নেমে পড়ি ভাতের হোটেলের অনুসন্ধানে।


যেভাবে যাবেন
বগুড়া থেকে মহাস্থানগড়ে যাবার পথে মহাস্থানের কয়েক কিমি আগেই এই আলোচিত বেহুলার বাসরঘর। বগুড়া শহর থেকে বাস অথবা সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে আপনাকে নামতে হবে গোকুল বাজারে। অথবা মহাস্থানগড় আগে ভ্রমন করলে, মহাস্থান থেকে স্কুটার, রিক্সায় গোকুল বাজারে আসতে পারবেন। তারপর সেখান থেকে ভ্যান অথবা রিকশায় অনায়াসে পৌঁছে যেতে পারবেন বেহুলার বাসরঘরে। রাতে থাকতে চাইলে ফিরে আসতে হবে বগুড়া শহরে। কেননা, এ এলাকার আশপাশে কোনো হোটেল বা মোটেল নেই।    

প্রেম যমুনার ঘাট, সারিয়াকান্দীঃ 
 সময় থাকলে সিএনজি করে যাবেন সারিয়াকান্দিতে। বগুড়া থেকে ২২ কিমি পূর্বে। এখানে যমুনার বাঁধে বসতে পারেন। গেলে যাবেন "প্রেম যমুনার ঘাট"-এ। এটাই সবচে সুন্দর ঘাট। এখানে নৌকায় চড়ে যমুনার বুকে বেড়াতে পারেন। চর থাকলে সেখানে নেমে গোসলও করতে পারেন। আর যাবার আগে বগুড়া থেকে প্যাকেট লাঞ্চ নিয়ে গেলে চরে পিকনিক পিকনিক আবেশ পাবেন।




 প্রেম যমুনার ঘাট (ছবি কৃতজ্ঞতাঃ ফেসবুক পেজ-প্রেম যমুনার ঘাট)

 কেনাকাটা---সাতমাথায় নিউমার্কেট, নবাব বাড়ি রোডে আলতাব আলী সুপার মার্কেট, আল আমিন কমপ্লেক্স , দত্তবাড়িতে জামিল শপিং সেন্টার আর জলেশ্বরীতলায় অনেক ছোট ছোট শপিং মল আর সুপার ষ্টোর আছে। এছাড়া হকার্স মার্কেটেও কমদামে অনেক কিছু কিনতে পারবেন। পাশেই রেললাইনের ঊপড় অস্থায়ী 'হঠাৎ মার্কেট' থেকেও ঘুরে আসতে পারবেন।


বগুড়া নিঊ মার্কেট (কৃতজ্ঞতা-আমিনুল)

আল আমিন কমপ্লেক্স (ছবি-বগুড়াসিটিডটকম)

আলতাব আলী মার্কেট (ছবি-বগুড়াসিটিডটকম)

 BCL সুপার মার্কেট (ছবি-বগুড়াসিটিডটকম)


TMSS মার্কেট  (ছবি-বগুড়াসিটিডটকম)


জামিল শপিং সেন্টার


খাওয়া দাওয়াঃ
আকবরিয়াতে ফালুদা খাবেন। কলোনি বাজারের কাছে চুন্নু ভাইয়ের দোকানের চাপ খাবেন। এই চাপ কোন অংশেই মোস্তাকিমের চাপের কম নয়। রাস্তার পাশে বসে হরেক রকম কাবাব খেতে পারেন। কোয়ালিটিতে (সাতমাথায়) বিরানি খাবেন। সারাজীবন মুখে লেগে থাকবে।যদি কম খরচে এবং ভেরিয়েশেনের খাবার (যেমন সকল ভর্তা, কবুতর, বক, বিভিন্ন পাখির মাংস ইত্যাদি) খেতে চান তাহলে যাবেন ২নং রেলগেট সংলগ্ন সেলিম হোটেলে। এছাড়া হোটেল শ্যামলী, হোটেল আকবরিয়া, সেলিম হোটেল প্রায় সব ধরনের আইটেমের খাবার পাবেন

বগুড়ার দইঃ
                                                     (দই এর দোকানগুলির অবস্থান)


দই কিনবেন---অবশ্যই কিনবেন এশিয়া সুইটস থেকে (সাতমাথায়)। এশিয়ার দই দুপুরের আগেই শেষ হয়ে যায় তাই আগেই কিনবেন। এশিয়ার সাদা দই বেশ বিখ্যাত। তা না হলে মহররমের দই নেবেন। এছাড়া মহররম আলীর দই, দইঘর এর দই, রফাত-র দই, সেলিম হোটেল, শ্যামলী রেষ্টুঃ এর দই , আকবরিয়া-র দই, চিনিপাতা দই, মিষ্টিমেলার দই, রুচিতার দই কিনবেন। একেকটার একেক স্বাদ। গৌর গোপালের সাদা দই পেলে কিনবেন (সবসময় পাওয়া যায় না)


মহররম আলী দই ঘর এর শোরুম (ছবি কৃতজ্ঞতাঃ ব্লগার রোহান)

দই এর পাশাপাশি এশিয়া সুইটস, মহররম আলীর দইঘর, দইঘর, সেলিম হোটেল, শ্যামলী রেষ্টুঃ , আকবরিয়া-র হোটেল, মিষ্টিমেলাইয় নানান ধরনের মিষ্টি কিনতে পারবেন। এছাড়া হরেক রকমের মিষ্টির দেখা পাবেন বগুড়ায়।

    এশিইয়া সুইটস এর মিষ্টির বাহার









বগুড়ার দই আর আরো ছবি দেখতে এখানে ক্লিক করুনঃ ফেসবুক ফ্যানপেজ-বগুড়ার দই


আশা করি এসব তথ্য নিয়ে আপনার বগুড়া ভ্রমন আরামদায়ক এবং স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।




Wednesday, January 11, 2012

কি করে বুঝবেন স্ট্রোক হয়েছে ??......পড়ুন এবং জেনে রাখুন.... জীবন বাচাতে পারেন



STROKE স্ট্রোকঃ মনে রাখুন শব্দটির প্রথম ৩টি অক্ষরঃ S, T এবং R

আমার বন্ধু আমাকে এই ছবিটি পাঠিয়েছে এবং আমাকে এই কথাগুলো ছড়িয়ে দেয়ার জন্য উৎসাহ দিয়েছে। আমরা সবাই যদি এই ছোট্ট সাধারণ সণাক্তকরণ উপায়টা শিখে ফেলি, তবে হয়তো আমরা স্ট্রোকের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের প্রিয়জনদের রক্ষা করতে পারবো।

একটি সত্যি গল্পঃ

একটা অনুষ্ঠানে গিয়ে একজন ভদ্রমহিলা হঠাৎ হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলেন। উঠে দাঁড়িয়ে তিনি বললেন, সবকিছু ঠিক আছে, মেঝের টাইলসে তার নতুন জুতোর হীল বেঁধে যাওয়ায় তিনি পড়ে গিয়েছিলেন। কেউ একজন এম্বুলেন্স ডাকার কথা বললেও তিনি তাতে রাজি হলেন না।

সবকিছু ঠিকঠাক করে, পরিস্কার করে তিনি নতুন করে প্লেটে খাবার নিলেন। যদিও মনে হচ্ছিলো যেন তিনি একটু কেঁপে কেঁপে উঠছেন। অনুষ্ঠানের সম্পূর্ণ সময় জুড়েই তিনি উপস্থিত থাকলেন। পরদিন দুপুরে ভদ্রমহিলার স্বামী ফোন করে জানালেন, তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সন্ধ্যা ছয়টার সময় তিনি মারা গেলেন।

মূল যে ঘটনা ঘটেছিল, তা হলো, তিনি অনুষ্ঠান চলাকালীন সময় স্ট্রোক করেছিলেন। সেখানে যদি কেউ জানতেন, কিভাবে স্ট্রোক সনাক্ত করা সম্ভব, তাহলে হয়তো ভদ্রমহিলা আজও বেঁচে থাকতেন।

সবাই যে মৃত্যুবরণ করে, তা নয়। অনেকের ঠাঁই হয় বিছানায়, সাহায্যহীন, ভরসাহীন মূমুর্ষূ অবস্থায়। মাত্র তিনটা মিনিট সময় নিয়ে এটা পড়ে ফেলুন।

একজন মস্তিষ্কবিশেষজ্ঞ বলেছেন, যদি একজন স্ট্রোকের শিকার রোগীকে স্ট্রোক হবার তিন ঘন্টার মধ্যে হাসপাতালে নেয়া যায়, তবে তাকে সম্পূর্ণভাবে সুস্থ অবস্থায় ফেরত পাওয়া সম্ভব। শুধু আমাদের জানতে হবে কিভাবে স্ট্রোক চেনা যায়, এবং কিভাবে রোগীকে উল্লেখ্য সময়ের মধ্যে মেডিকেল কেয়ারে নেয়া যায়।

স্ট্রোককে চিনুন...

সহজ তিনটি ধাপঃ- S T ও R...পড়ুন এবং জানুন!

মাঝে মাঝে স্ট্রোকের উপসর্গ সনাক্ত করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। আমাদের অজ্ঞতার কারণেই নেমে আসে যাবতীয় দুর্যোগ। স্ট্রোকের শিকার রোগীর মস্তিষ্কে যখন ভয়ানক রকম ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে, পাশে দাঁড়ানো প্রিয়জনটিই হয়তো বুঝতে পারছে না, কি অপেক্ষা করছে তাদের কাছের মানুষের জীবনে।

সহজ উপায়ে স্ট্রোক সনাক্ত করার উপায়, সহজ তিনটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করুনঃ

S – Smile রোগীকে হাসতে বলুন।

T – Talk রোগীকে আপনার সাথে সাথে একটি বাক্য বলতে বলুন। উদাহরণঃ আজকের দিনটা অনেক সুন্দর।

R – Raise hands. রোগীকে একসাথে দুইহাত উপরে তুলতে বলুন।

এর কোনো একটিতে যদি রোগীর সমস্যা বা কষ্ট হয়, তৎক্ষণাৎ দেরি না করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। এবং চিকিৎসককে সমস্যাটি খুলে বলুন। (রোগী বলতে স্ট্রোকের শিকার সন্দেহ করা ব্যক্তি বোঝানো হয়েছে)

সনাক্তকরণের আরেকটি উপায় হচ্ছে, রোগীকে বলুন তার জিহবা বের করতে। যদি তা ভাঁজ হয়ে থাকে, বা অথবা যদি তা বেঁকে যেকোনো একদিকে চলে যায়, সেটাও স্ট্রোকের লক্ষণ। তৎক্ষণাৎ তাকে হাসপাতালে নিয়ে

একজন খ্যাতনামা হৃদবিশেষজ্ঞ বলেছেন, যদি আমরা সবাই-ই এই সহজ ব্যাপারগুলো জেনে রাখি, তবে আমরা একজনের হলেও জীবন বাঁচাতে পারবো।

সুতরাং, আপনি শিখলেন, আপনার বন্ধু ও প্রিয়জনদেরও শেখান!!!

আমি চাইনা এরকম অসচেতরতার কারণে কেউ জীবন হারাক........তাই শেয়ার করলাম।

সম্পূর্ণ লেখাটি ফেসবুক থেকে Sadan Chowdhury নামের একজনের কাছে থেকে নিয়েছি....উনাকে অনেক ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য

Tuesday, January 10, 2012

সেপ্টেম্বরে পেপাল খুলছে বাংলাদেশে


ইন্টারনেট ভিত্তিক অর্থ লেনদেন গেটওয়ে পেপ্যাল নিয়ে বাংলাদেশীদের হতাশার দিন শেষ হতে চলেছে। আগামী জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর (বছরের তৃতীয় প্রান্তিক) মাসের মধ্যে বাংলাদেশে পেপ্যাল তাদের কার্যক্রম শুরু করবে বলে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার এন্ড ইনফরমেশন সার্ভিস বা বেসিস নেতৃবৃন্দকে জানিয়েছেন পেপ্যাল সংশ্লিষ্ঠরা। আজ শনিবার বেসিস সভাপতি মাহবুব জামান একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, পেপ্যাল-এর অভাবে দেশের ফ্রিল্যান্সার এবং আইসিটি খাতের ব্যবসায়ীদের প্রচুর সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এটি সমাধানে আমরা বেসিসের পক্ষ থেকে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছি প্রথম থেকেই। সম্প্রতি ঢাকায় ই-এশিয়া সম্মেলনে আমরা যে ফ্রিল্যান্সিং সম্মেলন করেছিলাম সেখানেও সাধারণ ফ্রিল্যান্সাররা দেশে পেপ্যাল চালুর জোর দাবী জানান। সম্মেলনে উপস্থিত ইন্টেলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জন ডেভিস বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নেন, আমরাও তাঁকে বোঝাই বাংলাদেশে পেপ্যাল-এর প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে। ডেভিস যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গিয়ে পেপ্যাল-এর প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশে পেপ্যাল চালুর কথা বলেন। তাঁর কথায়ই আমাদের দেশে কার্যক্রম শুরুর আগ্রহ দেখিয়েছেন পেপ্যাল। এবছরের তৃতীয় প্রান্তিকেই বাংলাদেশে পেপ্যাল তাদের কার্যক্রম শুরু করবে বলে আমাদের জানানো হয়েছে।



বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। এখানে কার্যক্রম শুরু করতে পেপ্যাল-এর কোন আইনগত ঝামেলা নেই। বাংলাদেশে আসলে নিজেদের ব্যবসায়িক ক্ষতি হবে এমন আশংকা থেকেই এতদিন সেবাটি চালুতে অনাগ্রহ দেখিয়েছিলো প্রতিষ্ঠানটি। তাছাড়া বিদেশে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ইমেজের জন্যও টাকা লেনদেনের এই কোম্পানীটি আগ্রহ প্রকাশ করেনি। মাহবুব জামান মনে করেন, যারা বাংলাদেশের ভাবমূর্তির বিরুদ্ধে প্রচারনা চালিয়েছে, তারা দেশের সাংঘাতিক রকমের একটি ক্ষতি সাধন করেছে।
তথ্যপ্রযুক্তিক্ষেত্রের সংশ্লিষ্ঠরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক এই পেমেন্ট গেটওয়ে বাংলাদেশে বৈধতা পেলে আরো বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে দেশে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা এলেও তা রেমিট্যান্স হিসেবে গণ্য হচ্ছে না। অবৈধ উপায়ে এগুলো দেশে প্রবেশ করছে। আমাদের দেশের তরুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা এতো কষ্ট করে যে বৈদেশিক অর্থ উপার্জন করছেন, সেটা কেবলমাত্র সিস্টেমের কারণে “কালো টাকা”য় পরিনত হয়ে যাচ্ছে, যা উপার্জনকারীর জন্য মোটেও সুখকর বিষয় নয়। এই ব্যবস্থার ফলে, আমাদের তরুন প্রজন্ম সেই অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে।

Monday, January 2, 2012

কাহালু উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬৮ বছরপূর্তি : নবীন-প্রবীণের মিলনমেলা

বগুড়ার কাহালু উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করা হলো। বিদ্যালয়ের ৬৮ বছরপূর্তি উৎসব যেন নবীন ও প্রবীণের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
গত রোববার সকাল থেকে দিনভর অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির মধ্যে ছিল বর্ণাঢ্য রালি, চা-বিরতি, পরিচিতি পর্ব ও মুক্ত আলোচনা সভা। এ ছাড়া নিবন্ধনকৃত ছাত্রদের লটারির আয়োজন করা হয়। শেষে কাহালু থিয়েটারের সার্বিক সহযোগিতায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ১৯০০ সালে জমিদার পেরিলাল মজুমদার কাহালু পাল্লাপাড়ায় একটি পাঠশালা স্থাপন করেন। এ পাঠশালায় তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান শুরু হয়।
১৯১০ সালে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি পায়। ১৯৪০ সালে জমিদার কালীপদ মজুমদার ও তশরতুল্লা কবিরাজের সার্বিক সহযোগিতায় এখানে নবম ও ১০ম শ্রেণীর পাঠদান শুরু হয়। ১৯৪৪ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক এ বিদ্যালয় ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত মঞ্জুরিপ্রাপ্ত হয়। ২০০৯ সালে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে রাজশাহী বোর্ডের মধ্যে এই বিদ্যালয় অষ্টম স্থানের অধিকারী হয়। বগুড়া জেলার মধ্যে এ বিদ্যালয়টি অনেকটা উন্নত হলেও প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বড় কোনো অনুষ্ঠান হয়নি। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কামাল উদ্দিন কবিরাজ সাবেক ছাত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ লিয়াকত আলী সরদার, গ্রাম থিয়েটারের রাজশাহী বিভাগীয়প্রধান আঃ হান্নান, সেফগার্ড স্কুলের অধ্যক্ষ আলহাজ আবুল হোসেন, কাহালু উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলহাজ আঃ মান্নান, ফ্রেন্ডস সার্কেল ৯৪-এর সভাপতি মইনুল ইসলাম তালুকদারসহ অনেকের সহযোগিতা নিয়ে বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদের একত্র করার চেষ্টা করেন।
ফলে বর্ণিল আয়োজনে এ অনুষ্ঠানটি নবীব ও প্রবীণদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। মুক্ত আলোচনায় অংশ নেওয়া সাবেক ছাত্রদের মধ্যে অনেকেই গুণীজন। মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা কাহালু উচ্চ বিদ্যালয়ে সাবেক ছাত্র হিসেবে অনেকটা গর্ববোধ করেন।

Monday, December 26, 2011

রাস্তার এপারে আর ওপারে

বাসার সবাই দেশের  বাড়িতে গেছে। এদিকে আমাদের কলেজে আবার সাইন্স ফেয়ার  শুরু হবে। তাই আমি যাই  নাই।ফ্রেন্ডের বাসায় থাকবো। ভিকারুননিসানুন আসবে,হলিক্রস  আসবে,বিএএফ শাহীন আসবে।আমাদের  তো তখন পাঙ্খা অবস্থা।আমরা  কলেজের মোটামুটি সবচেয়ে বদ ব্যাচ।ক্লাস মিস থেকে শুরু করে ভাইস প্রিন্সিপালের  সাথে দাড়িয়াবান্ধা খেলার  অভিজ্ঞতাও আছে কারো কারো।হুট করে সাইন্স ফেয়ারের কথা শুনে আমরা সবাই চরম সিরিয়াস।নিয়মিত ক্লাসে ঢুকি। বড়ভাইদের সালাম দেই।এমন করতে করতে সাইন্স ফেয়ার শুরু হয়ে গেলো। ফালু সাহেব উদ্বোধন করলেন। আমি স্কাউটে নাই। হুট করে মাথায় স্কাউট এর ফ্রেন্ডদের মধ্যে একজনরে বললাম,আমি থাকবো ভলান্টিয়ারে।বন্ধুতো টাশকী!!!!কাহিনী কি!!অনেক কষ্টে,কাহিনী ঝামেলা শেষ করে ঢুকলাম ভলান্টিয়ার গ্রুপে।আমি আর অদিতি।আমাদের দিলো সরকারী বিজ্ঞানের নতুন বিল্ডিঙ্গের ২তলায়।বাইরের থেকে ছেলেদের স্কুল আসছে ওই রুমে। মেজাজ খারাপ।এইজন্য কি ভলান্টিয়ার হইছি নাকি?অদিতিকে বললাম,দোস্ত কিছু কর।লাঞ্চ এর সময় স্কাউট গ্রুপের বড় ভাইকে গিয়ে ধরলাম।বললাম ৩তলায় ভিকারুননিসার রুমে দিতে হবে আমাদের।কিছুক্ষন কথাবার্তার পরে ভাইয়া রাজি হলো।শুরু হলো আমার কাহিনী প্রথম ধাপ।

লাঞ্চের পরে গিয়ে ঢুকলাম ভিকারুননিসার মেয়েরা যেই রুমে ছিলো সেই রুমে। আমি আর অদিতি তো পুরা ভাবে আছি।এরমধ্যে দেখে নিচ্ছি চারপাশ।হঠাত করেই চোখে চোখ পড়লো। Eyes-u eyes-u meet-u meet-u অবস্থা ।প্রথমে বুঝতে পারি নাই।কিছুক্ষণ পরে আবার তাকালাম।একই কাহিনী।অদিতিকে কাহিনী বললাম।ও বললো,চালাইয়া যা।প্রথম দিন এইভাবে শুধু আমারই মনে একটু উত্থাল-পাত্থাল শুরু হইলো(পরে তার কাছে শুনেছি তিনি নাকি প্রথম দিনে কিছুই দেখেননি)।রাতে ফ্রেন্ডের বাসায় তো আমার আর ঘুম আসে না।ওরা ৩জন থাকত ওর রুমে।২টার দিকে বসলাম কার্ড খেলতে।খেলতে খেলতে ভোর।নাস্তা করতে বের হলাম।এসে ছোট্ট একটা ঘুম দিয়ে নিলাম।কিছুক্ষণ পরেই উঠে দৌড় দিলাম কলেজে। গিয়ে সাথে সাথে ৩তলায়।আগের রুমেই।দেখলাম তিনি এসে পড়েছেন। অনেকে আসছেন।প্রজেক্টের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করছে। তিনি কথা বলছেন।মাঝে মাঝে মনে হয় আমার দিকেও একটু তাকাচ্ছেন।আমি তো ভলান্টিয়ারের কাজ ছেড়ে সব ভুলে তার টেবিলের কাছেই দাঁড়িয়ে থাকি।মনে নেই,কি যেন একটা সমস্যা হচ্ছিলো।আমাকে বললো অনেকক্ষন পরে।আমি তো হাতে চান্দের বাত্তি পাইলাম।যা যা করা লাগে করলাম।এরমধ্যেই দুপুর হয়ে গেলো।স্যার এসে বলে গেলো,লাঞ্চের সময় থেকে শুরু করে যতক্ষণ না পর্যন্ত স্যাররা বলবেন ততোক্ষন পর্যন্ত রুমের দরজা বন্ধ থাকবে এবং মেয়েরা সবাই রুমের ভেতরে থাকবে।কেউ বের হবে না,কেউ ঢুকবেও না। জানিয়ে দিলাম সবাইকে।ওহ।আমাদের দুইজন মানে আমার আর অদিতিরও রুমের থেকে বের হওয়া চলবে না। ঠিক আছে।সবচেয়ে বিরক্তিকর পরিস্থিতে তখন।

রুমে শুধু আমরা দুইটা ছেলে।আর বাকি সব মেয়ে।খালি চিৎকার,চেঁচামেচি......হুট করেই দেখলাম করিডরে একটা ছেলে হাটাহাটি করছে।আমাদের জানামতে তখন পুরা বিল্ডিং বন্ধ।কেউ ঢুকতে পারা কথা না।দেখলাম ছেলেটা তাদের টেবিলের দিকে আসার চেষ্টা করছে। ছেলেটা দরজার কাছাকাছি আসতেই আমি গেলাম।আমাকে বললো ভেতরে ঢুকতে চায়।আমি বললাম,ভাইয়া এখন তো প্রজেক্ট শো বন্ধ। আপনি কিছুক্ষণ পরে আসেন।এরমধ্যেই তিনি এগিয়ে আসলেন আমার দিকে।পেছন থেকে ডাক শুনে ঘুড়ে দাড়ালাম।কিন্তু পড়ে যাওয়ার অবস্থা হলো আমার।তিনি কথা বলতে আসছেন আমার সাথে। বললেন যেই ছেলেটি আসছে সে তাদের এক ফ্রেন্ডের বড় ভাই। আমি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থেকে তার কথা শুনলাম।বললাম,আপু আমাদের কিছু করার নেই।উনি বললেন,দেখেন না ভাইয়া কিছু করা যায় কিনা।আমি বললাম,ঠিক আছে।দেখছি।একবন্ধুকে ডাক দিলাম।তাকে বললাম ছেলেটিকে পুরো ফেয়ার ঘুড়িয়ে দেখাতে। কেউ কিছু বললে যাতে বলে একজন কম্পিটিটরের ভাই। সেই বড় ভাই(!) কে নিয়ে আমার বন্ধুটি গেল।আমি তো তখন উড়তেছি। তিনি বললেন থ্যাঙ্কস।সবাই থ্যাঙ্কস দিলো তাদের টেবিলের।

আমাকে আর পায় কে। এতক্ষণে ইনফিল্ট্রেট করার চান্স পেলাম।এরপরে কিছুক্ষণ পরপরই তাদের সামনে যাই,তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করি। এর মধ্যেই স্যার এসে বলে দিলো রুম ওপেন করে দিতে।অনেকক্ষণ বন্ধ থাকার ফলে তখন পানির মত ছেলেরা ঢুকতে লাগলো।আমার আর অদিতির তো মাথা খারাপ অবস্থা।এরপরেই সেই কাহিনী......কোন একটা স্কুলের এক ছেলে একটা প্রজেক্টের মেয়েদের কমেন্টের ডায়রীতে খারাপ কিছু লেখে সম্ভবত। মেয়েরা তাদের মিস কে কথাটা জানায়।রীতিমত গন্ডগল লেগে যায়।আমি আর অদিতি যাওয়ার পরে মেয়েরা আমাদের জানালো।এরপরে আমি কলার ধরে ছেলেটাকে টেনে নিয়া আসলাম আর অদিতি হাল্কা দুই একটা দিতে থাকলো(কি দিলো তা নিশ্চই আর বলতে হবে না)। মারামারি দেখে যে মেয়েদের টেবিলে ঘটনা হইছে তাদের একজন হঠাত নাই হয়ে গেলো।মানে অজ্ঞ্যান।আমাদের তো মাথায় বাড়ি।অদিতিকে ছেলেটার ব্যবস্থা করতে বলে আমি আবার ফিরে আস্লাম।

এসে দেখি সবাই পানি পানি বলে চিৎকার করছে কিন্তু এতোগুলো মেয়ে কারো কাছেই পানি নেই। আঙ্কেল(আরেক বন্ধু) কে পাঠালাম পানি আনতে। পানি আসলো।ছিটানো হলো মেয়েটার মুখে। সুস্থ হলো।এতক্ষণে আরেকদিকে তাকানোর কথা খেয়ালই ছিলো না।হুট করেই তাকিয়ে দেখি তিনি আমার দিকে তাকিয়ে আছেন।আবার একটা হার্টবিট মিস করলাম।এরপরে আসলাম তাদের দিকে।জিজ্ঞেস করলাম তারা ঠিক আছে কিনা।কিছু দরকার কিনা।বললো না।আবারো থ্যাঙ্কস পেলাম তাদের থেকে।এরপর টুকটাক কথা চলতে থাকলো।তখনো নাম জিজ্ঞেস করার সাহস পেলাম না।এরমধ্যেই ২য়দিন শেষ।আজকের দিনের ফলাফলে আমি সন্তুষ্ট।পারলে সংবাদ সম্মেলন করি টেষ্ট খেলা অধিনায়কের মত ২য়দিনের সাফল্যের কথা ভেবে।এইদিন আর বাসায় গেলাম না।অনেকক্ষণ আড্ডা দিলাম সেজান পয়েন্টে।আড্ডা দিয়ে ১১টার দিকে ফ্রেন্ডের বাসায়।ওরে আপডেট দিলাম।অপেক্ষার রাত......কখন শেষ হবে আল্লাহ মালুম!!!!!

কোনমতে রাতটা পার হলেই আমি পুরা উসাইন বোল্টের মত দৌড় দিলাম মিরপুর থেকে।কলেজে ঢুকে ব্যাগটা রেখেই খোজ নিলাম তিনি আসছেন কিনা।ততক্ষণে আমাদের পুরা সার্কেলে খবর হয়ে গেছে।“বাবু আটকাইয়া গেছে বড়শীতে”। কিছুক্ষণ পরেই তারা আসলেন।আমার তো অবস্থা খারাপ।আজকেই ফেয়ার শেষ,কিছু একটা করতেই হবে।কিছু একটা বলতেই হবে।এরমধ্যেই বনি বাজি ধরলো।এক প্যাকেট সিগারেট।আমি নাকি মেয়েটার সাথে কথাও বলতে পারবো না।মাথা তো আরো খারাপ। এরমধ্যেই গেলাম তার সামনে।কথা হলো টুকটাক। কিছুক্ষন পরে বেরসিকের মত ফালু সাহেব এসে পড়লেন।মানে সময় শেষ।সবাইকে কলেজের অডি তে যাওয়ার জন্য বলা হলো।আমি তো আর যাই না।তাদের সাথে সাথে গেলাম। তিনি গিয়ে বসলেন।আমি থাকি ফাকে ফাকে।তাকে যেখান থেকে দেখা যায় সেখানে।আমার তখন ধুকপুক চলছে।যদি আর কথা না হয়...যদি আর দেখা না পাই... আস্তে আস্তে পুরস্কার দেয়াও শেষ হয়ে যায়।আমাদের কলেজ প্রথম আর সম্ভবত তাদের প্রজেক্টাই ২য় হয়।একসময় তারা বের হয়ে যাবেন বুঝতে পারছি।তখন স্কাউটদের গলার স্কার্ফটা খুলে আমি দৌড় আবার।কারণ তখনও স্কাউটদের অডি ছাড়তে বলা হয় নাই।কিসের নিয়ম নির্দেশ...আমি তো তখন দিশেহারা...যখন সিড়ি দিয়ে নামছেন তিনি তখন কথা হলো।কেমন যেন মিটিমিটি একটা হাসি।আমি আবার হার্টবিট মিস করলাম।চলে যাচ্ছেন।কি করবো,শুধু তাদের কলেজের গাড়ির সামনে দিয়ে হাটাহাটি করছি।কি করা যায়।হঠাত বুদ্ধি পেলাম।বনিকে ধরলাম,মামা,তোরে এক প্যাকেটে সিগারেট এখনি দিমু।এই নাম্বারটা দিয়া আয়।কত কষ্টে যে একটুকরা কাগজ আর কলম পাইলাম। লিখে দিলাম নাম্বার আর নিচে বাবু(আমার নাম)।এরপরে আস্তে আস্তে তাদের গাড়ি ভরে উঠলো।চলে গেলো।তখনি কেমন যেন খালি খালি লাগছিলো......তারপরেও শান্তনা ছিলো অন্তত নাম্বার দিতে পেরেছি।

এরপরে একটু একটু মন খারাপ নিয়া বাসার দিকে গেলাম।গিয়ে নাহিদকে কল করলাম(যার বাসায় থাকছি)।বললাম আমি শাহ আলীতে পুল ক্লাবে।ও বললো ওর একটু দেরী হবে।আমি যেন ওয়েট করি। আমি গেলাম।কয়েকজনের সাথে আড্ডা দিচ্ছি।হুট করেই মোবাইলে দেখলাম অনেকক্ষণ আগে আসা একটা মেসেজ বক্স এর সিগন্যাল।ওপেন করলাম। লেখাছিলঃ babu,ami Tammi.amar to mobile nei.tomar Jodi TnT number thake tahol ei number a msg dio.ami call korbo. আমি তো কিছুই বুঝলাম না(কত্ত গাধা ছিলাম)। নাহিদ আসলো।অনেকক্ষণ খেললাম বিলিয়ার্ড।রাতে বাইরেই খেলাম।তারপরে সারারাত কার্ড খেল্লাম।কেন যেন তার কথা মনে ছিলো না।হয়তো অবচেতন মন ভেবেছিলো হয়তো আর কখনোই তার সাথে দেখা হবে না,কথা হবে না,চশমা পরা চোখের ফাকে দেখবো না দুষ্ট হাসির ঝিলিক...

সকালে ঘুম থেকে ঊঠতে পারি নি।মোবাইলে চেক করতে গিয়ে আবার দেখলাম মেসেজটা।কেমন অদ্ভুত!!!তাম্মি কে?আমার নাম জানে,আমি চিনি না!!!!কি আজিব!!!নাহিদকে ডেকে উঠালাম।কোচিং ছিলো প্লেন মসজিদে।বাসে উঠলাম।প্রথমে ফার্মগেট তারপরে এলিফ্যান্ট রোড। বিআরটিসির ডাবল ডেকারে উঠলাম।দুপুর তখন।উপরে পুরাই খালি।আমি আর নাহিদ,হয়তো আরো দুই একজন ছিলো।হুট করেই আমার মাথায় কি যেন ক্লিক করলো।আরি!!!!!কাল না একটা মেয়েকে আমি নাম্বার দিলাম!!!!সাথে সাথে মোবাইল বের করে মেসেজ পাঠানোর সময়টা দেখলাম।মিলে যাচ্ছে।সন্ধ্যার কিছু আগে পাঠানো।বাসের মধ্যেই আমি বিশাল কইরা একখান চিৎকার দিলাম।নাহিদ জিজ্ঞেস করলো ঘটনা কি।ওরে বললাম।তারপরে পুরা ঘটনা বোঝা গেলো।বাস থেকে নেমেই কার্ড কিনলাম।কল করলাম মেসেজ পাঠানো হয়েছে যে নাম্বার থেকে সেই নাম্বারে।আমতা আমতা করে বললাম,আমার নাম বাবু।কাল তাম্মি আমাকে এই নাম্বার থেকে মেসেজ পাঠিয়েছে।ওর টিএন্ডটি নাম্বারটা দেয়া যাবে কিনা।ওপাশ থেকে বলা হলো,তিনি তাম্মির সাথে জিজ্ঞেস করে নেবেন।আমি যেন পরের দিন কল করি।আমি তো কথা বলার শেষে দুইটা লাফ দিলাম বিশাল বিশাল...

এরপরে তাম্মি নিজেই কল করলো।কথা হলো।তার নাম্বার নিলাম।কথা হলো।অনেক কথা...অনেকক্ষন...আমি পাগল হয়ে উঠেছি দেখা করার জন্য।স্থান সময় ঠিক হলো।বেইলী রোডের গলপিয়াতে দেখা হবে। আমি হরাইযন দাড়িয়েছিলাম...কলেজ ড্রেসে।তিনি আস্লেন,রিকশা থেকে নাম্লেন।তারপরে ছোট্ট করে একটা চিতকার,ইউনিফর্মে কেন??এখনো হাসি মনে হলে...

কথা বল্লাম...কথা হলো...অনেকক্ষণ গলপিয়াতে বস্লাম।যাওয়ার সময় হলো।রিকশা ঠিক করে দিলাম...একা একা চলে গেলো বাই বলে...আমাকে বললোও না যে আমি কোথায় যাবো/ওর সাথে রিকশায় উঠবো কিনা কারণ আমি মগবাজার যাবো বাস ধরতে।ওর বাসার রাস্তাতেই।চলে গেলো রিকশার হুড তুলে দিয়ে...আমি আবার একা।দাড়িয়ে থাকলাম।কিছুক্ষণ।একা একা।খুব একা...

সময়:সাল ২০১১..
স্থানঃশাহবাগ,জাদুঘরের সামনে।

আমিঃতুমি কই?
সেঃ আমি ল্যাব থেকে বের হইছি।কোথায় তুমি?
আমিঃআমি শাহবাগে।আসিফভাইর জন্য যে সমাবেশ করছি ওইখানে।
সেঃআমি আসবো?
আমিঃআসো।এসে চলে যাও।দেখা করে।

কিছুক্ষণ পরে  তিনি আসলেন।এসে ডাক দিলেন।আমি  তখণ ব্যস্ত কথা বলায় আন্দোলনের  পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে।আমি গেলাম।গিয়ে একটু করে হাতটা ধরলাম।বললাম,চলো,চা খাই।চা খেলাম।পরে বললাম,তুমি চলে যাও।এখানে তোমার থাকা লাগবে না।বললো,কিচ্ছু হবে না,থাকি।আমি জোর করে পাঠিয়ে দিলাম বাসায়।আমাকে বলে গেলো সাবধানে থাক্তে।আমি বললাম,থাকবো।

আবার আমি ব্যস্ত ও চলে যেতেই।খেয়াল নেই কোনদিকেই।হুট করেই মোবাইল বের করে দেখি ৮৭টা মিসকল।মোবাইল সাইলেন্ট ছিলো।টের পাইনি।আম্মু,আব্বু,আপু,তিনি...সবাই কল করেছেন।দেখতে দেখতেই আবার তার কল।রিসিভ করলা।উদ্বিগ্ন একটা কন্ঠ...খুব রাগের সাথেই বললো,কই তুমি?কল পিক করো না কেন?সবাই টেনশন করতেছে বাসায়...আমি বললাম,সাইলেন্ট ছিলো।টের পাই নাই।সর‍্যি। এরপর বাসায় কথা বললাম।তারপরে আবার ওর সাথে...

এই হচ্ছে ও আর আমি।তাম্মি আর আমি।সেই ২০০৫ এর গলপিয়া থেকে যে একদিন চলে গিয়েছিলো একা সে এখন আমার সাথেই।প্রতিটা সময় যে সাথে থাকে।এই ভালোবাসা,এই ঝগড়া।একদিন হুট করে হাত ধরে ফেলেছিলাম।কিছু না বলেই।সেই হাত এখন আমার হাত ধরে।আমাকে টেনে নেয়...২০০৫ থেকে ২০১১।এখন সে আমার।রাত পার করে দেই কথা বলে...তবুও যেন তার কথা শেষ হয় না।আমি অবাক হয়ে থাকি।আমার মত একটা কাঠখোট্টা ছেলের সাথে কেউ এভাবে কথা বলতে পারে?যখন হাসে,অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি।চশমার ভেতর থেকেও যেন তার চোখ কথা বলে আমার সাথে...অসম্ভব প্রিয় ওর চুল আমার।পাগল হয়ে থাকি...কখন ওর চুল ছুতে পারবো...

৬বছর পার হয়ে গেছে...ওর আর আমার।যেদিন ও মেসেজ দিয়েছিলো,জাতীয় সঙ্গীতের ২য় লাইন শুধুই আমার জন্য,পাগলে হয়ে ওকে কল করেছিলাম।শুধু ওর মুখ থেকে শোনার জন্য।বলে নি।শুধু বলেছিলো,মেসেজতো দিয়েছি।বলাতে পারি নি।শুনতে পারি নি,সেই আকাংখিত কথাটি।দেখা হতো না।কথা হতো না।দুইজনেরই পরীক্ষা।তারপরে ইন্টার পাশ করে দুইজনের ভার্সিটি...আর ও আর আমি।

খুব রাগ হয় আমার কাজকর্মে।আমি নাকি খালি দেশ  দেশ করি।কি হবে এসব করে।কেন  ওকে সময় দেই না।কেন মিছিলে থাকি,কেন মিটিং এ থাকি।অনেক  অভিযোগ।অভিযোগ আর অভিযোগ...  জানি কিসের ভয় থেকে বলে  এসব।বলাটাই স্বাভাবিক।আমিও শুনিনা ওর কথা।জানি দুইদিন পরে আবার ওই আমাকে বলবে এইটা নিয়ে লেখ,ওইটা নিয়ে কাজ  করা উচিত।নিজেই আবার আমাকে বলবে।

আমাদের গল্পটা খুব সাধারণ।কিন্তু আমার চোখে প্রতিটা সময় ধরা  আছে।প্রতিটা সেকেন্ড।প্রতিটা সময় এখনো দেখতে পাই।সবচেয়ে মজার ছিলো মিরপুর থেকে বাসা চেঞ্জ করে যখন মগবাজারে আসলাম,তখন হুট করেই গলিতে ঢোকার মুখ দেখি ডাক্তারের গলি লেখা।আমি তো অবাক।এক পরিচিতকে বলে দিয়েছিলাম বাসা খুজতে।তিনি এই গলিতেই বাসা দেখেছেন।যখন বাসা ঠিকাঠাক হলো তখন বললাম আমরা ডাক্তারের গলিতে বাসা নিয়েছি।ও তো অবাক।কারণ হুট করেই বাসা চেঞ্জ করেছিলাম।ও বললো কোথায়?আমি বললাম,মসজিদের সাম্নের গলিতে।তখন ফুটবল বিশ্বকাপ চলে।২০০৬।আমি বল্লাম,আমি আমাদের বাসার ছাদে।ওর ছোট ভাই আবার ফ্রান্সের সাপোর্টার।বললো দেখো তো কোন বাসার ছাদে ফ্রান্সে পতাকা দেখা যায় কিনা।খুজতে খুজতে দেখি ঠিক রাস্তার অপর পাশেই মাত্র ৯টা বিল্ডিং পরেই একটা বাসার ছাদে ফ্রান্সের পতাকা।বিল্ডিঙ এর বর্ণনা দিতে তিনি উচ্ছসিত কন্ঠে জানালেন,হ্যা।এইটা।আমি চিন্তা করলাম,এই ছিলো কপালে?হুহ...এখন তিনি মাঝে মাঝে আমাকে ফোন করে বলেন,"তাজিম(ওর ছোট ভাই)কে পাঠাইছি।আচার খাইতে ইচ্ছা করতেছে।প্রান এর আমস্বত্ত।কিনে পাঠাও..." আমি আবারো চিন্তা করি..."হায়রে আল্লাহ!!!!এই ছিলো কপালে????"


-Babu Ahmed

Saturday, December 24, 2011

নিজের মধ্যে সামান্যও যদি মনুষত্য থাকে তবে ফিরিয়ে দাও

জাপান আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু। সেই জাপান থেকে এসেছিলেন অধ্যাপক মাসাহিকো তোয়াগা যিনি বাংলাভাষাকে ভালোবাসেন। বাংলা ভাষা নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন। তিনি বাংলায় কথাও বলেন সুন্দরভাবে। বাংলাভাষার টানেই তিনি বঙ্গবিদ্যা সম্মেলনে অংশ নিতে এসেছিলেন। একজন ভিনদেশী হয়ে আমাদের ভাষাকে ভালোবেসে কি পেলেন উনি? হারালেন দুই হাজার ডলার, এক লাখ ইয়েন, বাংলাদেশি ৫০ হাজার টাকা, একটি ল্যাপটপ, একটি ডিজিটাল ক্যামেরা, মডেম, কিছু বই ও মূল্যবান কাগজপত্র এবং তাঁর পাসপোর্ট ছিলও। গতকাল তিনি প্রথমআলোর মাধ্যমে আকুতি জানিয়েছেন ল্যাপটপ বা অন্তত হার্ডডিক্সটা ফেরত দিতে, পরিচয় গোপন রেখেও ফেরত দিতে পারে এমন অনুরোধ করেছেন। কতটা বিনয়ী আর নম্র হলে এভাবে বলা সম্ভব? কিন্তু আমরা জাতি হিসাবে কতটা নীচ আর নিম্ন মানসিকতার তা কি ঐসব শিক্ষিত চোর (যেহেতু টিএসি থেকে চুরি হয়েছে) আবারও প্রমান করলো।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্র-পররাষ্টমন্ত্রী>>>>>দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় আপনারা অনেক কিছু করছেন সাইনবোর্ড লাগাচ্ছেন, কোটি টাকা খরচ করে বিদেশী সংবাদপত্রে ক্রোড়পত্র দিচ্ছেন, কিন্তু জাপানী এই অধ্যাপকের হারানো জিনিস উদ্ধারে কিছু করবেন কি? বহিঃবিশ্বে এমনি আমাদের ভাবমূর্তি ভালো না, কদিন আগেও এক বাংলাদেশী জাপানের নরম-বিনয়ী মানুষকে দেশের একটি মসজিদকে সংস্কৃতিকেন্দ্রে বলে কয়েক কোটি ইয়েন আত্নসাৎ করেছিল, এখন আবার এই ঘটনা। এগুলোই আমাদের দেশের ভাবমূর্তিতে কালিমা লেপন করছে। আপনাদের প্রতি অনুরোধ এসব মালামাল উদ্ধারে যথাযথ ব্যবস্থা নিন, নতুবা আমরা চোরের জাতি হিসাবে পরিনত হব। হাতেগোনা কজনের জন্য পুরো জাতির গায়ে কালিমা চলে আসছে......প্লিজ রক্ষা করুন জাতিকে। ঐসব সাইনবোর্ড/ক্রোড়পত্রের চেয়ে এসব মালামাল উদ্ধার করে দিলে দেশের ভাবমূর্তি বাড়বে......এই ঘটনা জাপানের পত্রিকায় যদি প্রকাশ পায়, চারিদিকে ছিঃ ছিঃ পড়ে যাবে, তার আগেই ব্যবস্থা নিন প্লিজ।

Monday, December 19, 2011

মুক্তিযুদ্ধের পরে...facebook থেকে

প্রায় ২ বছর  পর দেশে এসে পুরনো বন্ধুদের সাথে দেখা করছি। আমার এক বন্ধু  জয় । অনেকের সাথেই দেখি ওর যোগাযোগ নাই ।

তাই অনেক খোজ খবর নিয়ে ওর ঠিকানায় গিয়ে হাজির হলাম। সাধারন কথাবার্তাই হল ।ওর কোন উচ্ছলতা দেখলাম না । অথচ ওই ছিল আমাদের সবার মধ্যে উচ্ছল ।ওকে জিজ্ঞেস করি,"কিরে রাইসার কি অবস্থা ?"

আমি বিদেশ যাওয়ার কিছুদিন আগেই ওদের সম্পর্কের শুরু ।এরপর আর তেমন কিছু জানিনা ।

রাইসার কথা শুনা মাত্র ওর চেহারা অন্য রকম হয়ে গেল আর রুক্ষ গলায় বলল-

 -হয়ত ভাল; না অবশ্যই ভাল আছে।

কথা বলায় ওর এমন অস্বাভাবিকতা দেখে জিজ্ঞেস করি-

 -কি হয়েছে?রাইসা কোথায়?ও বলে দোস্ত রাইসা তো আমার নয় । আমি কেমনে জানব ও কেমন আছে?

 - কেন তদের এত ভাল সম্পর্ক...

 একটু মজা করেই তারপর বলি –
 - খুলে  বল।নিজে যাতে ঐ ফান্দে না পড়ি।

ও একটা সিগারেট ধরাল।তারপর বলতে শুরু করল-

" আমার আর রাইসার সম্পর্কের কথা আস্তে আস্তে মা-বাবা,ওর পরিবার ও জানতে পারে।তবে কোন ঝামেলা ছাড়াই উভয় পরিবারের সম্মতিতে আমাদের বিয়ে ঠিক হয়। বিয়ের মাস খানেক আগে একটা কাজে কুমিল্লা যাই।ওদের গ্রামের বাড়ি ও ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাছেই। হঠাৎ ও ফোন করে বলে দাদু তোমাকে দেখতে চেয়েছেন।আমি বলি,ঠিক আছে একদিন গিয়ে ওনার সাথে দেখা করে আসব।ও ভারি গলায় বলে না তোমাকে আমাদের বাড়িতেই এই কদিন থাকতে হবে।আমি হেসে বলে বিয়ের আগে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে থাকলে লোকে কি বলবে?

ও ওর স্বভাব মতই আদেশের সুরে বলে তুমি যাচ্ছ এইটাই শেষ কথা । তো কোনো উপায় না পেয়ে গেলাম ওদের বাড়ি। থাকলাম,খেলাম,ঘুরলাম। ২ দিন পর একটা দোকানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বখাটে ধরনের একটা ছেলে বলে উঠে –ওই যে সালাম রাজাকারের নাতজামাই যায়। এ কথা শুনে আমি থমকে দাঁড়াই।গিয়ে জিজ্ঞেস করি কি বললেন?
ওরা বলে-রাজাকারের জামাই দেখি গরম দেখায়। অস্থির হয়ে গেলাম আসল ঘটনা জানার জন্য । অবশেষে এক বৃদ্ধের কাছ থেকে আমার হবু দাদা শ্বশুর আর শ্বশুরের ৭১ এ ঘটানো কিছু ঘটনার কথা জানতে পারি।এরপর কাউকে কিছু না বলে ই চলে আসি । এর ২ দিন পর রাইসা আমার বাসায় চলে এল। আমার মোবাইল বন্ধ ছিল বলে ফোনও করতে পারে নাই। এসে বাবা মাকে সব বলল ।

বাবা আমাকে জিজ্ঞেস করলেন,"কি হয়েছে? ওদের বাড়ি থেকে নাকি না বলে চলে এসেছিস ?"
 আমি শান্ত গলায় বলি,"বাবা এ বিয়ে হবে না।"
 সবাইতো আকাশ থেকে পড়ল।
বাবা বললেন, "১ মাস পর তোদের বিয়ে তুই এখন এসব কি বলছিস? তোর কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে? এইসব কি বলছিস?"

আমি যথাসম্ভব শান্ত ভাবে বললাম,"আমি কোনো রাজাকারের মেয়ে বা নাত্নিকে বিয়ে করতে পারবনা । এতক্ষনে রাইসার মুখের ভাব পরিবতন হল । চেহারায় কেমন যেন একটু তাচ্ছিল্য । আর বাবা নির্বাক।

রাইসা বলল,"এসব তুমি কি বলছ এইসব পুরনো ঝামেলার বিষয় টেনে এনে আমাদের ভালবাসা শেষ করে দিতে চাইছ?হাউ ফানি?"
 আমি বলি,"তোমার কাছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ,আমার দেশ ফানি হতে পারে আমার কাছে নয়।তোমার বাবাদের মত রাজাকাররা আজও তাদের কৃত দুষ্ক্রমের জন্য অনুতপ্ত নয় । তোমার মত তাদের সন্তানদের ও শেখাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ ছিল ঝামেলা, ছিল গণ্ডগোল। তোমার মত মায়ের কাছে আমার সন্তান কি শিখবে?"

ও তীক্ষ চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,"তাহলে তুমি এ বিয়ে বন্ধ করে দিচ্ছ?
আমি বললাম,"মুক্তিযোদ্ধা বাবার সন্তান হয়ে তো আমি আমার সন্তানকে এইসব শেখাতে পারিনা  সুতরাং 'হ্যাঁ'।"

ও কিছুক্ষন আমার দিকে চেয়ে রইল। তারপর বলল,"তোমার এ ত্যাগ এর জন্য তোমার দেশ তোমাকে কি দেয় দেখব ..."
তারপর আরেকবার আমার দিকে ক্রোধের দৃষ্টি ছুড়ে গটগট করে হেঁটে চলে গেল। বাবা মা দুজনেই শুধু অবাক চোখে দেখলেন কিছু বললেন না।বলে জয় কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। এরপর আর কখনো দেখা হয়নি। বছর খানেক পর একটা মার্কেট এর সামনে দেখা হয়েছিল।

জিজ্ঞেস করি,"কেমন আছ?"
তার জবাব না দিয়ে ও বলে," আমার স্বামী ,বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হকের ছেলে।"

আমি আর কিছু না বলে সোজা হাঁটা দিই। এরপর দেখলে দুর দিয়ে চলে যাই। দীর্ঘশ্বাস ফেলে জয়।

একটু পর পথে বের হই। হাঁটতে হাঁটতে নিজে নিজে ভাবি, জয় কি বোকামি করল?
উত্তর নিজেই দিই, না ভুল কেন হবে সত্তিকারের দেশপ্রেমিকতো একেই বলে। অথচ ওকে আজ পালিয়ে চলতে হয়। দেশ ওকে একটা চাকরি ও দিতে পারে নি কারন এখন জয় এর কোন পাওয়ারফুল মামা নাই।

আমি কি রাইসা কিংবা শামসুল হক এর ছেলে কে দোষ দেব ? কিভাবে? আজ শেখের রক্তে ও যে মিশেছে রাজাকারের রক্ত । তবে কি দেশটা এগিয়ে যাবে অন্ধকারের দিকে ? যেমন আমি এগিয়ে যাচ্ছি বিদ্যুৎবিহীন অন্ধকার গলির দিকে?

না-যত দিন জয় এর মত দেশ প্রেমিক থাকবে ততদিন এ দেশ অন্ধকারে ডুবে যাবে না। আমদের ই লড়াই করে এ দেশ কে বাঁচাতে হবে, কিন্তু কিভাবে? হাঁটি আর ভাবি…. দীর্ঘশ্বাস ফেলি...

অতৃপ্তি>>>>>facebook থেকে

অনেক দিন পর কম্পিউটার টা নিয়ে বসলাম । আম্মার কঠোর নিদের্শে ওটাকে মামার বাসায় শিফট্ করা হয় । প্রায় ২ মাস পর কম্পিউটার নিয়ে বসেই ডেল্টা ফোর্স (black hawk down) গেমটা খেলতে বসে গেলাম । অনেক পুরোনো গেইম ।কিন্তু এটাই আমার ভাল লাগে । মামার রুম এর দরজাটা লাগিয়ে , ফুল ভলিউমে খেলতে লাগলাম । হটাত্‍উচ্চস্বরে কান্নার শব্দ । তাও আবার একাধিক কন্ঠের । ঐ আওয়াজটা এতো বেশিই ছিল যে আমার এতো হাই ভলিউমের গেমসের গোলাগুলির শব্দকেও হার মানালো ।
ভয় পেয়ে গেলাম । লাফ দিয়ে উঠে দাড়িয়েই দৌড়দিলাম শব্দের উত্‍স লক্ষ্য করে । খেয়াল করলাম শব্দটা নানাভাইয়ের ঘর থেকে আসছে । অজানা আশংকায় কেপে উঠলো বুক । আমার চলার গতি একদম কমে গেলো ।
ইদানিং নানাভাই বেশি অসুস্থ । অসুস্থতার কারন জানতে ঢাকার ল্যাবএইড , পিজি , এপোলো সহ আরো অনেক জায়গায় বিভিন্ন টেস্ট করা হয়েছে । ছোট মামা ডাক্তার হওয়ায়, বিভিন্ন বড় বড় ডাক্তারকেও দেখানো হয়েছে । কিন্তু কোন ফলই পাওয়া জায়নি ।
নানাভাই ঢাকা থাকতে মোটেই পছন্দ করেন না । তাই তাকে কুমিল্লায় নিয়ে আসা হয়। প্রচন্ড অসুস্থ তিনি । কিছুই খেতে পারেন না । তাছাড়া খাট থেকে উঠতেও তার। ভীষন কষ্ট হয় ।
বড় খালামনি ঢাকা থেকে এসে গেছেন । তার কোন ছেলেমেয়ে নেই । ফলে তার কুমিল্লা থাকতে কোন সমস্যা হবে না । তাছাড়া নানাভাইয়ের সবচেয়ে প্রিয় সন্তান তিনি । নানাভাইয়ের রুম এ ঢুকে দেখি । সবাই কাদছেন ।
আমি অবাক ! হতভম্ব হয়ে গেলাম সেদিন । কেনো যে তারা কেদেছিলেন ঠিক বুঝে উঠতে পারি নি ।

ঐ দিন দুপুরে মামা তার এক ডাক্তার বন্ধুকে নিয়ে এলেন । ঐ ভদ্রলোক নানাভাইকে দেখে , বিভিন্ন চেকাপ করালেন । আমি তখন তাকিয়ে ছিলাম মামার দিকে । মামার চোখে কেমন যেনো একটা বিষন্নতা , হাহাকার ! অবাক হলাম । কেননা মামা সবসময় হাসিখুশি থাকতে পছন্দ করেন । তাহলে আজকে কি হল ? রাতে বাসায় এসে আম্মাকে ঐ কান্নার কারন বলার জন্য চাপাচাপি করতে লাগলাম । আম্মা জানালেন যে , নানাভাইয়ের নাকি লিভার সিরোসিস হয়েছে ।
এটা শুনে সবাই কাদছিলো , আর বেচারা নানাভাই সবাইকে কান্নার কারন জিগ্গেস করতে করতে , সবার এই সম্মেলিতো কান্না দেখে নিজেই কেদে দিয়েছিলেন ।
কয়েকদিন পর আবার নানাভাইকে দেখতে যাই । এরই মধ্যে সবার জানা হয়ে গেছে যে নানাভাই আর বেশিদিন বাচবেন না । তার পাকস্থলিতে ক্যান্সার হয়েছে । সবাই মনমরা থাকে । আমারও তেমন ভাল লাগে না ।

ঐ দিন নানাভাইয়ের রুমের সামনে দিয়ে যাচ্ছি । হটাত্‍নানাভাই ডাক দিলেন। কাছে গেলাম । আম্মা নানাভাইয়ের পাশেই বসে ছিলেন ।

নানাভাই বললেন "কে রে ?"
আমি নানাভাইকে দেখে ভয় পাই এখন । ওনার চোখ মুখ সববসে গেছে । মুখের আর শরিরের সব হার গোনা যায় ।কথাও তেমন স্পস্ট নয় । আমি ভয়ে কথা বললাম না ।

আম্মা বললেন "আব্বা । সানভি আসছে ।"

নানাভাই বললেন "সানভি নি রে ! ও । কেমন আছ নানাভাই?"

আমি বললাম "ভাল আছি ।"

আম্মা আবার বললেন "আব্বা । সানভির তো সামনে SSC পরিক্ষা । দোয়া কইরেন যাতে A+ পায় ।"

নানাভাই বললেন "তে তো A+ পাইবো । কিন্তু আমি তো দেইখা জাইতে পারমু না ।"

কষ্টের একটা শীতল স্রোত বয়ে গেলো শরীর দিয়ে । দৌড়ে বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম ।

এর ৮-১০ দিন পর ।

বৃহঃস্পতিবার ছিল । আমার সামনে টেস্ট পরিক্ষা । পড়াশোনা নিয়ে একটু বেশিই সিরিয়াস ।

বিকালে বাসায় এসে দেখি , বাসায় আব্বা আম্মা নেই । ছোট বোন দুইটাকে জিগ্গেস করাতে বলল , তারা নাকি নানাভাইকে দেখতে হসপিটালে গেছে ।বুঝলাম না কেনো নিয়ে গেলো হসপিটাল । নানাভাই তো হসপিটাল পছন্দ করেন না । এই সব কথা চিন্তা করতে করতেই ফোন এল । রিসিভ করলাম ।

আব্বা ফোন করেছেন । বললেন
"তাড়াতাড়ি হসপিটালে আসো । তোমার নানাভাই তোমাকে দেখতে চেয়েছেন ।"

তাড়াতাড়ি আমার ছোট বোন দুটোকে নিয়ে কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেলে রওনা দিলাম । এতদিন নানাভাইকে দেখতে যাই নি বলে একটা অপরাধবোধে ভুগছিলাম । পৌছেই সরাসরি নানাভাইয়ের কেবিনে ঢুকলাম । ঢুকে দেখি , আমাদের কুমিল্লার প্রায় সব আত্মীয়রা উপস্থিত । নানাভাই বেডে শুয়ে আছেন ।
বড় খালা তার মাথার কাছে কুরআন তিলাওয়াত করছেন ।

খালা আমাকে দেখে নানাভাইকে বললেন "আব্বা ।সানভি আসছে তো । আপনে না তারে
দেখতে চাইছিলেন ।"

নানাভাই যেনো একটু চোখ মেললেন । আমি তার পাশে গিয়ে বসলাম । নানাভাই পুরো নিস্তেজ অবস্থায় শুয়ে আছেন । হটাত্‍কয়েকজন ডাক্তার আর মামা ঢুকলেন কেবিনে । মামা নানাভাইয়ের বুক পাম্প করতে লাগলেন । আর অন্যান্য ডাক্তাররা তার পালস্ চেক করতে লাগলেন ।

একটু পর মামা চিত্‍কার করে কেদে দিলেন । আর বাদ বাকি ঘড়ের সবাইও কাদতে লাগলেন । আমি স্তব্ধ । চেয়ে আছি নানাভাইয়ের দিকে । যেনো তিনি ঘুমিয়ে আছেন । একটু পরই জেগে উঠে আমাকে বলবেন "নানাভাই তুমি আসছো?" আমি কাদি নাই । বিস্ময়ের ধাক্কায় কাদতে ভুলে গিয়েছিলাম ।

নানাভাইয়ের লাশ  নিয়ে রাতে গ্রামের বাড়িতে যাই। শুক্রবার জুম্মার পর তাকে দাফন করার কথা ঠিক হয় । ঐ দিন আশে পাশের গ্রামের অসংখ্যা মানুষ তার জানাজায় হাজির হয়েছিলো । তিনি মানুষকে নিস্বার্থভাবে ভালবেসেছেন । মানুষও তাকে ভুলে যায়নি ।

বিকালের দিকে নানাভাইকে দাফন করে সবাই চলে যায় ।

আমি চুপচাপ নানাভাইয়ের কবরের পাশে বসে থাকি । মনে পরে যায় কিছু স্মৃতি ।

ছোট থাকতে নানাভাই আমাকে কাধে নিয়ে ঘুড়তেন । অসংখ্যা গাছ লাগাতেন ।আমাকে দিয়েও লাগাতেন । আর বলতেন এই গাছগুলোর প্রত্যেকটা পাতা নাকি আমার মৃত্যুর পর আমার জন্য দোয়া করবে ।

কথনো তিনি আমাকে বকাঝকা করেন নি । যখন নানুবাড়িতে যেতাম অত্যন্ত ধার্মিক মানুষটি আমাকে নিয়ে নামাযের জামাআত এ যেতেন । গিয়ে সবাইকে বলতেন "এই দেখো আমার নাতি ।" পরপোকারি , নিস্বার্থ মানুষটি একজন সত্‍স্কুল শিক্ষক ছিলেন । কখনো অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেননি । মানুষের জন্য একদম নিস্বার্থ ভাবে অনেক কাজ করে গেছেন । আমাকে বলতেন ন্যায়ের পথেচলতে । মানুষকে সাহায্য করতে ।
তার আদর্শে মানুষ হওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি ।

"নানাভাই জানো আমি A+ পেয়েছি । আমার লাগানো কাঠাল গাছ , পেয়ারা গাছে এখন অনেক ফল ধরে । জানো ? এখনো বাড়িতে গেলে মনে হয় এই বুঝি জড়িয়ে ধরে আদর করবে । এখন আর কেউ আমাকে ফজর নামাজ পড়ে এসে আমার হাতে একটা বাতাসা গুজে দেয় না । তোমার মত কেউ এখন আর আদর করে কপালে চুমু খায় না । তোমার লাগানো গাছগুলো এখনঅনেক বড় হয়ে গেছে । সেই গাছ গুলোর প্রত্যেকটা পাতা নিশ্চই তোমার জন্য দুয়া করে তাই না ?

আচ্ছা নানাভাই আমার কি কোন ভুল হয়েছিল ?যদি না হয়ে থাকে , তাহলে কেনো এভাবে কিছু না বলে চলে গেলে ? ?"

নানাভাইয়ের শেষ ইচ্ছা ছিল আমাকে একটু দেখার । হয়তো তার সে ইচ্ছা আমি পূরন করতে পারি নি । এক দুঃসহ অতৃপ্তি রয়ে গেছে বুকের গভীরে । আল্লাহতালার কাছে আজকে আকুল আবেদন । আল্লাহ যেনো এই নিঃস্বার্থ মানুষটাকে জান্নাত বাসী করেন ।

FB ID: Ahnuf Sunvee

অবেলার কান্না>>>> facebook থেকে

যতটুকু বয়সে একজন শিশু কিছুটা গুছিয়ে কথা  বলতে শেখে , যখন তখন যার  তার কোলে উঠে পড়ার অধিকার হারায় কিংবা যে বয়সে তারা বড় হওয়ার সুখ স্বপ্ন দেখতে  শুরু করে , আমি তখন ততটুকুই  । চার কি পাঁচ বছরের মতো বয়স । তখনকার জীবনের ভাঙা ভাঙা কিছু ছবি এখনও আমার চোখে ভাসে । তখন আমরা থাকতাম আমাদের মোহাম্মদপুরের বাসাটায় ।  আমার শরীরে তখন একটি একটি করে ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে বড় হয়ে,বড় মানুষ হওয়ার বীজ , “অ”, “আ”, “ক”, “খ”।

স্বপ্ন দেখতাম বড় হয়ে দেশের প্রেসিডেন্ট হব । রাস্তায় শুধু লাল সবুজ নয় , কমলা ,বেগুনী আকাশী বাতিও জ্বলবে ।  ত্রিভুবনে আমার শত্রু বলতে একজনই ছিল, চাচাতো বোন মালিহা । তখনও পুরুষ বলতে যা বোঝায় তা হয়ে উঠিনি, তাই ওর গায়ে হাত তোলাটাকে কাপুরুষতা বলে মনে হয়নি কোনদিন । প্রতিদিন বিকেলে ইশা আপুদের বাসার ছাদের দোলনায় চড়া ছিল আমার সারাদিনের বিশেষ প্রতীক্ষার একটা কাজ ।

শ্যামা, ইশা , ফাহাম । ওরা দুই বোন এক ভাই। শ্যামা আপু ছিল ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্ট, এলাকার সেরা ছাত্রী (পরে জেনেছি ) । মেঝো বোন ইশা আপু তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ছাত্রী । এই দুই আপুর আদরের আতিশয্যে আমি তখন ওদের সাথে নরকে যেতেও এক পায়ে খাড়া । পৃথিবীতে ওরা ছাড়া কেউ আমাকে কোলে নেয় না, গালে চুমু খায় না । কলেজ জীবনেও এক বন্ধুকে দেখেছি বাসা থেকে বের হওয়ার সময় মায়ের কাছ থেকে হাত খরচ নিলো  , এরপর আমাকে অবাক করে দিয়ে ওর মা ওর কপালে একটা চুমুও দিলো। এই না হলে ভালোবাসা । চুমু ছাড়া কি কখনও ভালোবাসা যায়? আমি অভাগা ওই ছোট্ট বয়সেও বাসা থেকে এই ধরনের আদর সোহাগে অভ্যস্ত ছিলাম না । তাই বিকালবেলা ইশা আর শ্যামা আপুদের দেয়া গালের চুমু ছিল আমার কাছে একপ্রকার নিষিদ্ধ আকর্ষণ , কলেজ জীবনে সিগারেটে টান দেয়ার মতো । যে ভালোবাসা পৃথিবীর আর কথাও পাইনি সেটা পেয়ে তখন আমার শ্যামলা মুখও লাল হয়ে উঠতো ।

জানিনা কী কারণে, ইশা আপুদের ভার্সিটিতে একদিন আমার দাওয়াত পড়লো । ঐদিন ওদের ক্লাস এর প্রত্যেকে একজন করে আমার মতো চকলেট লোভীকে হাজির করলো । ওদের হলরুম তখন আমার মতো হাই অ্যামপ্লিচিউড সাউন্ড জেনারেটর এ ভরতি । সারাদিন থাকলাম , ছবি আঁকলাম, গল্প বললাম, ওদের টিচারদের সাথে গল্প করলাম।

সবাই-ই যে দিনটা আমার মতো আনন্দে কাটিয়েছিল তা নয় । কারও কারও কান্নার শব্দে ধরণী দ্বিধা হও অবস্থাও হয়েছিল। তবে সব মিলিয়ে আমি একটা রঙিন দিন কাটিয়েছিলাম । শেষ বিকালে যখন সমগ্র পৃথিবীটা লাল তখন পকেট ভরতি চকলেট আর মুখ ভরতি হাসি নিয়ে রওয়ানা দিলাম। এখনও স্পষ্ট মনে আছে ,আমি আর ইশা আপু গাড়ির পেছনের সিটে বসে আছি , আমার চোখের পাতা ভারী । ছোট শরীরে সারাদিনের ধকল সহ্য করতে না পেরে আমি গা এলিয়ে দিলাম , মাথা রাখলাম ইশা আপুর কোলে । মথায় ইশা আপু বিলি কেটে দিচ্ছে , এক আকাশ ভালোলাগা ছরিয়ে পরছে আমার সারাটা শরীরে । ঘুম সাগরে ডুব দেয়ার ঠিক আগে আগেই নিয়ে ফেললাম জীবনের এক অনিবার্য সিদ্ধান্ত , বড় হয়ে আমি ইশা আপুকেই বিয়ে করব , অবশ্যই করব ।

মুহূর্ত মুহূর্ত  করে মাঝে প্রায় আট দশ বছর  কেটে গ্যাছে , গঙ্গার পানি আরও  কালো হয়েছে , সমুদ্রের বুকের  ঢেউ গুলোকে অগ্রাহ্য করে  মেতে উঠতে পারিনা কোন শৈশবের খেলায় , অপলক চেয়ে থাকি । এই মুখ কোন নিষ্পাপ চুমু খাবার বয়স হারিয়েছে অনেক আগেই । শ্যামা আপু , ইশা আপুরাও আমাদের পাশের বাসায় থাকেনা । শুনেছিলাম রামপুরায় ফ্ল্যাট কিনেছে । কোন যোগাযোগ ছিলনা ওদের সাথে ।  কখনোই ওদের কথা আমার মনে পড়ে না ।

 নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত হতে শিখে গেছি আমি, আর এই ঘোড়দৌড়ের ময়দানে শৈশবের সারল্যগুলোকে বোকামি ছাড়া আর কিছু মনে হয়না আমার । কোন একদিন সকালে আমাদের বাসায় একটা দুঃসংবাদ আসে । এ ধরনের দুঃসংবাদে সামান্য উত্তেজনা ছাড়া আমার আর কিছুই হয়না । চোখের জলের নোনা স্বাদ আমার জিভ ভুলতে বসেছে, কঠিন আমার হৃদয়,শুষ্ক আমার চোখ , ধীরে ধীরে যেন পুরুষ হয়ে যাচ্ছি । তবে দুঃসংবাদটি শুনে ধাক্কার মতো খেলাম । ইশা আপু নাকি মারা গেছে ।

এটা কি হতে পারে? নিশ্চয়ই কথাও কোন ভুল হচ্ছে । ঐ শরীরে মৃত্যু আসতে দ্বিধা করবে । কিন্তু মৃত্যু নিষ্ঠুর , মৃত্যু পুরুষ । হ্যা, ইশা আপু আর বেচে নেই , ইশা আপু মারা গেছে ,ইশা আপু ছাদ থেকে পরে মারা গেছে । বাসার সবার সীমাহীন আফসোস এর সাথে আমার অনুভূতিগুলো ঠিক গলা মেলাতে পারছিলনা সেদিন । আমার নির্বাক অনুভূতিগুলো বুক আর কণ্ঠের মাঝামাঝি কোন একটা জায়গায় আটকে ছিল , জান্তব দমকে কান্না হয়ে বের হতে চাচ্ছিল ।  প্রায় অপরিচিত একজনের জন্য এই বয়সে কোন ছেলে কি কাঁদতে পারে ? অনেক চেষ্টা করেছি কান্নাটাকে আটকাতে । পারিনি । সেদিন কেঁদেছিলাম । অনেক দূরের কারও জন্যই কেঁদেছিলাম । দুঃখে আর লজ্জায় সেদিনও আমার শ্যামলা মুখ লাল হয়ে উঠেছিল ।



-হাফিজ আল রিয়াসাত

Sunday, December 18, 2011

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার, উত্তরবংগের রাজধানী, এক ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন জনপদ বগুড়া। শুধু বর্তমান নয়, পৌরাণিক এবং প্রাচীনকালের ইতিহাসে বগুড়া দখল করে আছে এক অতীব গুরুত্বপূর্ণ স্থান। প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্যের রাজধানী পুন্ড্রবর্ধনই হচ্ছে এ বগুড়া জেলা। মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন প্রভৃতি রাজাদের প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল প্রাচীন জনপদ বগুড়া । বগুড়ার নামকরণের ইতিহাস সম্পর্কে যা জানা যায় তা হলো, সুলতান গিয়াস উদ্দিন বলবনের পুত্র সুলতান নাসির উদ্দিন বগরা খান ১২৭৯ থেকে ১২৮২ পর্যন্ত এ অঞ্চলের শাসক ছিলেন। তাঁর নামানুসারে এ অঞ্চলের নাম হয়েছে বগরা বা বগুড়া।

Bogra is a town, and one of the oldest towns in northern Bangladesh. It is a centre of commerce and trade within the Bogra District and located under the Rajshahi Division. Bogra is sometimes described as the nerve centre of Northern Bangladesh. Amongst many notable activities, it has been hosting cricket test matches in Shaheed Chandu Stadium. Bogra is also the battle honour of 5/11 Gorkha Rifles of Indian Army which fought a fierce battle with Pakistani army here during the Liberation war of Bangladesh in 1971 along with Muktibahni.


Bogra town also has an importance in terms of transport in northern Bangladesh, as it's situated at the centre. Very close to the town there is a place called Mahasthangarh which was the earliest capital city of Bangladesh, formerly known as Pundravardhana. This place is considered to be sacred by Buddhists, Muslims and Hindus alike and is visited by tourists from all over Bangladesh throughout the year.
City: Bogra was officially established as a district during the British rule in the year 1821, but the seed of Bogra city was sewn long before. Several localities have the name “Chowk” which was the common practice at the time of the Mughal rule implying that settlement in and around Bogra City started during the time of the Mughals. In Bogra city there are 45 Temples , 2 Churches and 629 Mosques, built over the long past. The Mosques are indicating the long standing Islamic tradition with this place.
Former president of Bangladesh Ziaur Rahman and Muhammad Ali Bogra a former Prime Minister of Pakistan both were born in the district.