জাপান
আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু। সেই জাপান থেকে এসেছিলেন অধ্যাপক মাসাহিকো তোয়াগা
যিনি বাংলাভাষাকে ভালোবাসেন। বাংলা ভাষা নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন। তিনি
বাংলায় কথাও বলেন সুন্দরভাবে। বাংলাভাষার টানেই তিনি বঙ্গবিদ্যা সম্মেলনে
অংশ নিতে এসেছিলেন। একজন ভিনদেশী হয়ে আমাদের ভাষাকে ভালোবেসে কি পেলেন উনি?
হারালেন দুই হাজার ডলার, এক লাখ ইয়েন, বাংলাদেশি ৫০ হাজার টাকা, একটি
ল্যাপটপ, একটি ডিজিটাল ক্যামেরা, মডেম, কিছু বই
ও মূল্যবান কাগজপত্র এবং তাঁর পাসপোর্ট ছিলও। গতকাল তিনি প্রথমআলোর
মাধ্যমে আকুতি জানিয়েছেন ল্যাপটপ বা অন্তত হার্ডডিক্সটা ফেরত দিতে, পরিচয়
গোপন রেখেও ফেরত দিতে পারে এমন অনুরোধ করেছেন। কতটা বিনয়ী আর নম্র হলে
এভাবে বলা সম্ভব? কিন্তু আমরা জাতি হিসাবে কতটা নীচ আর নিম্ন মানসিকতার তা
কি ঐসব শিক্ষিত চোর (যেহেতু টিএসি থেকে চুরি হয়েছে) আবারও প্রমান করলো।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্র-পররাষ্টমন্ত্রী>>>>>দেশের
ভাবমূর্তি রক্ষায় আপনারা অনেক কিছু করছেন সাইনবোর্ড লাগাচ্ছেন, কোটি টাকা
খরচ করে বিদেশী সংবাদপত্রে ক্রোড়পত্র দিচ্ছেন, কিন্তু জাপানী এই অধ্যাপকের
হারানো জিনিস উদ্ধারে কিছু করবেন কি? বহিঃবিশ্বে এমনি আমাদের ভাবমূর্তি
ভালো না, কদিন আগেও এক বাংলাদেশী জাপানের নরম-বিনয়ী মানুষকে দেশের একটি
মসজিদকে সংস্কৃতিকেন্দ্রে বলে কয়েক কোটি ইয়েন আত্নসাৎ করেছিল, এখন আবার এই
ঘটনা। এগুলোই আমাদের দেশের ভাবমূর্তিতে কালিমা লেপন করছে। আপনাদের প্রতি
অনুরোধ এসব মালামাল উদ্ধারে যথাযথ ব্যবস্থা নিন, নতুবা আমরা চোরের জাতি
হিসাবে পরিনত হব। হাতেগোনা কজনের জন্য পুরো জাতির গায়ে কালিমা চলে
আসছে......প্লিজ রক্ষা করুন জাতিকে। ঐসব সাইনবোর্ড/ক্রোড়পত্রের চেয়ে এসব
মালামাল উদ্ধার করে দিলে দেশের ভাবমূর্তি বাড়বে......এই ঘটনা জাপানের
পত্রিকায় যদি প্রকাশ পায়, চারিদিকে ছিঃ ছিঃ পড়ে যাবে, তার আগেই ব্যবস্থা
নিন প্লিজ।
No comments:
Post a Comment